সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণ অনাবৃষ্টি

এই উপমহাদেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম প্রধান হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতা। ব্রোঞ্জ যুগের এই সভ্যতা ৩৩০০ থেকে ১৩০০ খ্রিস্ট্রপূর্ব পর্যন্ত টিকে ছিল। তবে সিন্ধু সভ্যতার শেষ কিংবা ধ্বংসের কারণ নিয়ে ঐতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের মনে রহস্য রয়েই গেছে। নানা গবেষণা চললেও সঠিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি।

সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণ হিসেবে নতুন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তাদের মতে টানা ৯শ’ বছরের খরার কারণেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এই প্রাচীন সভ্যতা। এর আগেও গবেষকেরা আন্দাজ করেছিলেন, প্রায় শ’দুয়েক বছরের অনাবৃষ্টির কারণে সভ্যতার মানুষ স্থানটি ত্যাগ করেছিল।

কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরের আইআইটি ভূতত্ত্ব এবং ভূপদার্থ বিভাগের একদল গবেষক সেই দাবিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে এই গবেষকেরা উত্তরপশ্চিম হিমালয়ের গত ৫ হাজার বছরের আবহাওয়া ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই গবেষণা থেকেই তারা জানতে পারেন যে সিন্ধু সভ্যতার হারিয়ে যাওয়ার কারণ ২শ’ নয় দীর্ঘ ৯শ’ বছরের অনাবৃষ্টি। আইআইটি খড়গপুরের নতুন এই প্রতিবেদন চলতি মাসেই কোয়াটারনারি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত হবে।

গবেষক দলের প্রধান আইআইটি’র ভূতত্ত্ব বিভাগের ফ্যাকাল্টি অনিল কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে সিন্ধু সভ্যতা যে অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল সেখানে প্রায় ২৩৫০ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্ট্রপূর্ব পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু ছিল অত্যন্ত দুর্বল।

এরই কারণে পরে গাঙ্গেয় সভ্যতা এবং দক্ষিণ ভারতীয় সভ্যতা বেড়ে ওঠে। গবেষকদের দাবি, নতুন এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতের সভ্যতা এবং জলবায়ু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে সাহায্য করবে।

তার মতে, টানা ৯শ’ বছর ধরেই উত্তরপশ্চিম হিমালয়ে অনাবৃষ্টি চলছিল। ফলে ওই এলাকার সব নদী, হ্রদ, জলাশয় শুকিয়ে যায়। যে হিমবাহ থেকে সিন্ধু নদের উৎপত্তি, তা থেকেই নাকি লেহ্‌–লাদাখ অঞ্চলে অবস্থিত সো মোরিরি হ্রদেরও উৎপত্তি বলে জানান তিনি।

হ্রদটির বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করেও তারা জেনেছেন, দীর্ঘকালীন খরায় হ্রদের অস্তিত্বই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদেই সিন্ধু অঞ্চলের মানুষেরা পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতের দিকে চলে যান।

এরই কারণে পরে গাঙ্গেয় সভ্যতা এবং দক্ষিণ ভারতীয় সভ্যতা বেড়ে ওঠে। গবেষকদের দাবি, নতুন এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতের সভ্যতা এবং জলবায়ু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে সাহায্য করবে।
কার সঙ্গে খেলছে শিশু? জানা গেল ভয়াবহ তথ্য!
আপনি কি করবেন, যদি জানতে পারেন আপনার বাচ্চা অদৃশ্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কিংবা খেলাধুলা করে? স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি শিশু মনের কল্পনা বলেই ধরে নেবেন। ব্রিটেনের রুথ স্লিন’ও তার বাচ্চার এমন আচরণে তেমনটাই মনে করেছিলেন। কিন্তু শিশুর সমস্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কিছুটা খোঁজ খবর নিয়েই জানতে পারেন ভয়াবহ সত্যিটা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নর্দান ডেইলি লিডার এক প্রতিবেদনে জানায়, স্লিন দম্পতি ছেলের আচরণে প্রথমে পাত্তা দেননি। কিন্তু কিছুদিন বাদেই বুঝতে পারেন ছেলে যার সঙ্গে খেলছে সে কোনো মনগড়া বিষয় নয়। কিন্তু পুরো নিশ্চিত হতে তিনি পরিচিত এক প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন।

প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞ ওয়েগা মার্থা ঘটনা জানতে পেরে রুথের বাড়ি যান। এরপর খেলাচ্ছলে নিকোলাস নামের ওই শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। তখন জানতে পারেন নিকোলাস যে কল্পিত শিশুর সঙ্গে খেলা করে তার নাম বেইলি।

মার্থা পরে রুথের কাছে জানতে চান, কবে থেকে নিকোলাস এমন আচরণ শুরু করে। তখন রুথ স্লিন জানান, বেশ কিছুদিন আগে তার স্বামী হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে হাসপাতাল ভর্তি হন। সেই সময় নিকোলাসকে নিয়ে স্বামীর কেবিনে একদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ছেলের ভেতরে পরিবর্তন দেখতে পান তিনি।

মাত্র ৪ বছরের ছেলে এরপর থেকেই অদৃশ্য কারও সঙ্গে কথা বলা এবং খেলায় মেতে ওঠে। আর কেউ জিজ্ঞাসা করলেই বলে, ‘আমি যার সঙ্গে খেলছি সে আমার বন্ধু। ও সব সময় আমার সঙ্গে থাকে’। বেইলি যে ওর সমবয়সী নয়, তাও জানায় সে। জানতে চাইলে বলে, বন্ধুর বয়স ১৪ বলে জানিয়েছে।

কথাচ্ছলে মার্থা নিকোলাসের কাছ থেকে জানতে পারেন, ওই হাসপাতাল থেকেই অদৃশ্য বন্ধুর সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্যতা। ফলে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সেই হাসপাতালেও যান প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞ মার্থা।

এরপর নানাভাবে খোঁজ নিয়ে মার্থা জানতে পারেন, হাসপাতালের যে কেবিনে রুথের স্বামী ভর্তি ছিলেন সেখানেই অতীতে বেইলি নামের এক শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর বেইলি’র কেস ফাইল খুঁজে বের করে মার্থা হতবাক হয়ে যান। আসলেই ১৯৪৪ সালে বেইলি নামের ১৪ বছরের এক কিশোর মারা গিয়েছিল।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানেন, দুষ্টুমি করে খেলতে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল বেইলি। এরপর তাকে হাসপাতালে আনা হলেও বাঁচানো যায়নি।

এরপরও খটকা থেকেই গিয়েছিল রুথ স্লিনের। প্রথমে ভেবেছিলেন মার্থা সম্ভবত তাকে প্যারানর্মাল বিষয়ের প্রতি জোর দিতে হাসপাতাল থেকে ভুতুরে তথ্য নিয়ে এসেছেন। এজন্যে রুথ শহরের ইতিহাস বিষয়ক সংগঠন Historical Society’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সেখানে গিয়ে কিছু পুরনো পত্রিকার কাটিং পরীক্ষা করে জানতে পারেন, মার্থা সত্যি কথাই বলেছিলেন। আসলেই ১৯৪৪ সালে বেইলি নামের এক কিশোর খেলতে গিয়ে একটি বিস্ফোরণে আহত হয়ে শহরের ওয়েগা হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরে মারা যায়। ছেলেটির পুরো নাম ছিল ফেড্রিক বেইলি।

সেই সময় ফেড্রিকের সঙ্গে তার বন্ধু কলিন মোয়লার ছিল। না জেনে ভয়ঙ্কর জেলিগনাইট দিয়ে খেলা করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই কলিন মারা যায়। আর মারাত্মক আহত ফেড্রিক বেইলিকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

ফলে রুথের আর বুঝতে বাকি থাকে না, ১৯৪৪ সালে প্রাণ হারানো ফেড্রিক বেইলি’র ভুত তার সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিকোলাসের সঙ্গে কথাও বলেন রুথ। বলেন, ‘অনেক দিন তো হয়েছে! তোমার বন্ধুকে বলে দাও তার নিজের বাড়িতে যেতে’।

কিন্তু প্রতিবাদ করে ওঠে নিকোলাস। বলে, ‘ও আমাকে বলেছে যে ওর বাবা মাকে সে ঘৃণা করে। ও কিছুতেই এখান তেকে যাবে না। বেইলি আমার সঙ্গেই থাকবে আর খেলবে’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত বেইলির ভুত নিকোলাসের সঙ্গেই রয়েছে। ওর সঙ্গে কথা বলে, খেলে.. কিন্তু কারও ক্ষতি সে করে না। আর তাই বেইলির ভুতকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর কোনো উদ্যোগ এখনও নেননি স্লিন দম্পতি।

কেবিএ