সন্তান কাঁদছে মায়ের জন্য, মা কাঁদছে প্রেমিকের জন্য!

সন্তান দুটি মাকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। মেয়েটির বয়স ১২, আর ছেলেটির বয়স ১০। তারা কিছুতেই মাকে ছাড়বে না। অন্যদিকে পাষণ্ড মা তার সন্তানদের ফেলে রেখে প্রেমিকের কাছে যাওয়ার জন্য চিৎকার করে কাঁদছে।

মা ও সন্তানদের এমন চিৎকারে নারায়ণগঞ্জ আদালতের জিআরও-তে ভিড় জমে যায়। শুনে ছুটে আসেন আইনজীবী, সাংবাদিক, বিচারপ্রার্থীসহ আশপাশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও। সবাই যেন এসেই থমকে দাঁড়ান।

পরকীয়া প্রেমের কারণে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাজিরা আক্তার মিতু ও তার দুই শিশু সন্তানের মধ্যে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সদর কোর্ট জিআরও বিভাগে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়। অবশ্য পরে মিতু তার সন্তানদের নিয়ে আগের স্বামীর সংসারে ফিরে যান।

কোর্ট পুলিশের এসআই হানিফ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিতু তার স্বামী উইসুফ মিয়া ও তাদের দুই সন্তান (সন্তানদের নাম জানা নেই) নিয়ে ভূইগড় রূপায়ন টাউনে বসবাস করেন।

এরমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে এক সন্তানের জনক আবুল হোসেন সজিবের সঙ্গে পরকীয়ায় সম্পর্ক গড়ে উঠলে ১৮ এপ্রিল দুই সন্তান ও স্বামীকে রেখে রূপায়ন টাউন থেকে মিতু পালিয়ে যান।

এরপর ২৬ এপ্রিল মিতুর স্বামী ইউসুফ মিয়া একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ রোববার বিকালে মিতুকে উদ্ধার করে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে মিতু জবানবন্দিতে বলেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দিয়ে সজিবের কাছে চলে গিয়েছেন। পরে আদালত মিতুকে তার নিজ জিম্মায় মুক্তি দেয়।

রোজাদার বন্ধু বা সহকর্মীকে যেভাবে সহযোগিতা করতে পারেন

পবিত্র রমজানের রোজা পালন করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। আমরা আজ প্রথম রোজা পালন করছি। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের এই সংযমের মাসে তাদের ধর্মকর্ম সঠিকভাবে পালনের সুযোগ করে দিতে অন্য ধর্মের মানুষদেরও আহ্বান জানিয়েছে ইনডিপেন্ডেন্ট। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই ভোররাতে সেহরি খাওয়া থেকে শুরু করে মাঝের সময়টুকুতে সমস্ত পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে দূরে থাকা এবং সূর্যাস্তের সময় ইফতার করার যে গোটা প্রক্রিয়া, তাতে মুসলমানদের সহায়তা করতে সবারই এগিয়ে আসা উচিত। আবার যারা রোজা রাখেননি কিংবা রাখতে পারেন না, তারাও কিন্তু রোজাদারদের নানাভাবে খেয়াল রাখতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আপনার আশপাশে যে সকল মুসলমান বন্ধু কিংবা সহকর্মীরা রয়েছেন তাদের রোজা রাখার কাজে সহায়ক হয়ে উঠুন। তাহলে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষাভাষির মানুষরা মুসলমানদের রোজা রাখায় কীভাবে সহায়তা করতে পারেন? এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন সিএনবিসিআই’য়ের প্রতিবেদক শাফি মুসাদ্দিক। আসলে বিদেশ-বিভূঁইয়ে অনেক দেশ এবং ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। আমাদের দেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। তবুও যারা ভিন্ন ধর্মের আছেন, তারা চাইলে পাশের মুসলমান বন্ধু বা সহকর্মীকে রোজা রাখার প্রক্রিয়াতে সহায়তা করতে পারেন।

১. প্রথমেই কথা বলতে কোনো দ্বিধা করবেন না। একেবারে স্বাভাবিকভাবে রোজা বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন। তার কোনো সহায়তা লাগলে জিজ্ঞাসা করুন। কারণ যিনি রোজা রাখছেন তিনি কোনো প্রয়োজন হলেও কিছু নাই বলতে পারেন। এ বিষয়টি আসলে শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে হবে। তাকে আবেগগতভাবেও সমর্থন দিতে হবে। যেসব অফিসে খুব কম সংখ্যাক মুসলমান রয়েছে সেখানে অন্যদের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।

২. কানে অশ্লীল শোনায় এমন বাজে জোকস বলবেন না। এগুলো অফিসের কাছে সহকর্মীদের মধ্যে চলতেই পারে। কিন্তু অন্তত রোজার মাসে মুসলিম সহকর্মীদের সামনে এমন কথা বা কৌতুক করবেন না। কিংবা ইচ্ছে করে তার সামনে মজার খাবার খেয়ে তার সংযমকে পরীক্ষা করতে যাবেন না।

৩. রোজদার কেমন আছে তার খবর নিন। সবাই রোজা রাখতে পারেন না। তার অসুস্থতা দেখা দিতেই পারে। দুপুরে লাঞ্চে যাওয়ার আগে তার খোঁজ নিন, না খেয়ে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। দুপুরের দিকে রোজদারদের সাধারণত ক্লান্তি আসে।

৪. যদি আপনি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে থাকেন, তবে রোজদারদের সুবিধার দিকে নজর দিন। তাদের ইফতার ও নামাজের সময় দেয়া এবং প্রয়োজনে আর কিছু সুবিধা চাইলে আপনি প্রদান করতে পারেন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রাখুন।

৫. যারা ইসলাম ধর্মের নন, তারা রোজা সম্পর্কে কিছু জানতে নগন্য গবেষণা করলেই জেনে নিতে পারেন। এর জন্যে রয়েছে গুগল। একটু জেনে নিলে বোকার মতো ‘তোমরা পানিও খেতে পারো না’ টাইপের জন্য করতে হয় না। আসলে এখন মানুষ অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রাখে। যা আগে ছিল না। আপনিও না জানলে একটু জেনে নিন।

৭. ইফতার বা সেহরিতে অংশ নিতে পারেন। এখানে যে কেবল মুসলমানরাই অংশ নিতে পারবেন তা নয়। মুসলমান বন্ধু দাওয়াত দিয়ে অবশ্যই যেতে দ্বিধা করবেন না। বিশেষ করে ইফতারে দারুণ মজার সব খাবার থাকে।

আরএম-১৪/১৯/০৫ (লাইফস্টাইল ডেস্ক, তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট )