যে কারণে কাবা শরীফের উপর দিয়ে দুনিয়ার কোন বিমান ও পাখি উড়ে যেতে পারেনা!!!

পোস্ট টি শেয়ার করে সবাইকে দেখতে দিন ।
সবেমাত্র কাব্যের ব্যাংকের জবটা হলো। আর অমনিই তার পরিবার থেকে বিয়ের জন্যে তাড়া দেওয়া শুরু হলো। — কিন্ত কাব্য একেবারেই বিয়ের জন্যে প্রস্তুত নয়। — মাত্র তো চাকরী হলো লাইফটাকে দু’এক বছর ইনজয় করতে কাব্যের এই খেয়ালীপনা। –অথচ মা তো ছেলের বউ দেখতে নাচোড়বান্দা। –শুধু এতদিন ছেলের ভালো একটা চাকরির অপেক্ষায় ছিলো। এখন নিশ্চিন্ত মা এই ভেবে যে,ছেলেকে ভালো বিয়ে দিতে পারবেন। -কিন্তু কাব্য মায়ের কথা শুনেও না শুনার ভান করে থাকে। – কাব্যর নতুন চাকরী বলে সেই ভোরবেলা থেকে দরজা বন্ধ করে শুধু ড্রেস চেইঞ্জ করে যাচ্ছে। এখনও মনের মত করে তৈরি হতে পারছেনা। –এখন বেশ খানিকটা বিরক্ত হয়ে কাব্য অফিসের জন্যে তৈরি হয়ে গেলো। –কাব্য আসবো? — হ্যাঁ মা এসো। –কিছু বলবে! — আমার ছেলেটাকে আজ দারুণ হ্যান্ডসাম লাগছে। — মা,,,,,,,, তোমার নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য আছে না হলে হঠাৎ ছেলের এত প্রশংসা কেন করছো! –বারে,,,, আমি কি আমার ছেলের প্রশংসা করতে পারিনা। কাব্য:পারো মা তবে সেই সাথে তোমার উদ্দেশ্য টা বলো। মা:ঐ যে তোর স্বপ্না খালা আছেনা বলছিলেন, উনার ননদের মেয়ের কথা।

কাব্য:মা তোমার কোন বোনের ননদের মেয়ের কথা বলো বাদ দাও তো। তুমি ভুলে গেছো মা ওরা একবছর আগে তোমার দেওয়া প্রস্তাব রিজেক্ট করেছিল।আজ ওরাই আবার! বাদ দাও এসব বিয়ে নিয়ে আপাতত আর কিছুই শুনতে চাচ্ছিনা। কাব্য:মা নাস্তা হয়েছে! মা:হুম, কিন্তু কাব্য বিষয়টা একটু ভেবে দেখিস বাবা। নাস্তা সেরেই কাব্য অফিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। –জ্যামের শহরে অনেক যুদ্ধ করে কাব্য অফিস পৌঁছালাম। — অফিসে ঢুকতেই কাব্য সবাইকে সালাম দিলো। সালামের উত্তর নিতে নিতে সবাই এদিক ওদিক চাওয়া চাওয়ি করে হাসছিলো। ক্লার্ক(সৌম্য): কাব্য সাহেবে এখনও সিংগেল আছেন তো তাই এত সকাল সকাল অফিসের আসার সুযোগ পেলেন।বিয়ে করলে তো বউ এর ঘ্যানঘ্যানানির জন্যে সঠিক টাইমে আসতেই পারবেন না। ক্লার্ক(রাহাত):সৌম্য দা আপনি তো বিবাহিত আপনি যে সকাল সকাল আসেন কারন কি দাদা! –বউয়ের ভালোবাসা নাকি ঘ্যানঘ্যানানি! –হা হা হা হা,,,,,,,,,,,,,,,,,, –আরে ভাই বিয়েটা করো তবেই বুঝবে বউয়ের ঝাড়ি না খাওয়ার জন্যেও সকালে অফিস আসতে হয়। — কাব্য হাসছিলো কথাগুলো শুনে। –রাহাত:কাব্য সাহেব তো বিয়েটা কবে করছেন। দেখতেও তো ভাই মাশাল্লাহ্ আপনি আর ভালো জব, ইয়াং সবকিছু মিলে বিয়ে তো একটা করাই যায়। কাব্য :রাহাত ভাই বিয়ে কিন্তু একটাই করে মানুষ। রাহাত :তা,,,,,,,,ঠিক কিন্তু অনেকেই তো দু চারটা বউ,,,,,,,,,,,,,,,,! কাব্য :রাহাত ভাই হাসালেন। রাহাত:কেন? কাব্য :একটা বউ সামলাতে ……….. … আর আপনি ? এরমধ্যে অফিসের বসের আগমন সবাই চুপচাপ। . . . . . বিকেল অফিস শেষ করে পাবলিক বাসের ঝাকুনি সহ্য করে কাব্য বাসায় ফিরলেন। দরজায় নক করে ঢুকতেই স্বপ্না খালা উপস্থিত। আসসালামু আলাইকুম! ওয়ালাইকুম আসসালাম….

.. -কেমন আছো কাব্য? –জ্বি,আন্টি আলহামদুলিল্লাহ। –অফিস থেকে আসলে বুঝি? –জ্বি আন্টি। –যাও বাবা ফ্রেশ হয়ে আসো একসাথে চা খাবো আর জমিয়ে গল্প করবো। –কাব্য রুমে চলে গেল। –স্বপ্না খালা :আপা জানেন কাব্য কে না আমার সেই ছোটবেলা থেকে পচন্দ। এত ভালো ছেলেটা আপনার যে মেয়ের স্বামী হবে সেই অনেক ভাগ্যবতী হবে। মা:কি বলেন কাব্য কে বিয়ে করলে মেয়েদের ভাগ্য ফিরে যাবে!তাহলে এক কাজ করি গরীবের দুর্ভাগা কোন মেয়েকে কাব্যের বউ করে আনি।দেখি আমার ছেলের সংস্পর্শে সে মেয়ের ভাগ্য খুলে কি না!! স্বপ্না খালা :কি যে মজা করতে পারেন আপা আপনি। গরীবের দুর্ভাগা মেয়েকে আমাদের কাব্য বিয়ে করবে। বাব্বাহ্ ছেলের ভালো জব হতে না হতেই বেশ মজা নিতে শিখে গেছেন দেখি আপনি। আচ্চা যাক,আপা আমার যে কারনে আসা তাই তো বলা হয়নি। কাব্য:আমি মনে হয় বুঝতে পেরেছি আন্টি। স্বপ্না খালা :তুমি যা ট্যালেন্ট কাব্য আমি জানতাম তুমি বলার আগেই বুঝবে তাই তো তোমাকে আসতে দেখে আমি প্রসঙ্গ উঠিয়েছি। কাব্য:আন্টি আপনিও কিন্তু বেশ ট্যালেন্ট। স্বপ্না আন্টি :মানে! কাব্য :না হলে আমায় দেখেই কি না………! জ্বি আন্টি আপনার কথা বলুন স্বপ্না খালা:ঐ যে মনে আছে তোমার ,,,,,,,,, তোমার মা এক বছর আগে বলছিলেন না,আমার ননদের মেয়ে তৃনার সাথে তোমার বিয়ের কথা। আমরা চাচ্ছিলাম, অল্প কিছু দিনের মধ্যে তোমাদের চার হাত এক করে দিতে। কাব্য : কিন্তু আন্টি আমরা তো চাইছিনা। আপনার মনে আছে আন্টি একবছর আগে বিয়ের প্রপোজাল আমার মা-ই দিয়েছিল।তখন আপনারা আমার মাকে কি বলেছিলেন,মনে আছে। বলেছিলেন,ইডুকেটেড হলে হয়না ভালো জব ও হতে হয়। না হলে আমাদের মেয়ে কেন কোন ভালো মেয়েই নাকি আপনার ছেলের ভাগ্যে জুটবেনা। তো এখন হঠাৎ কেন পুরনো কথা বলছেন। –অমনি আন্টি আামার জবের সাথে আমার ভাগ্য ও আপনারা পরিবর্তন করে দিলেন হাসালেন। আপনি এখন আসতে পারেন আন্টি। আর এসব বিয়ে নিয়ে আর আসবেন না আমাদের বাসায়। স্বপ্না খালা :আপা আপনার ছেলের কথা শুনলেন। কেমন দেমাগ নিয়ে কথা বলল। আমি হলে তো এমন ছেলে অনেক আগেই ………… মা:একটু আগে বললেন,আমার ছেলে অন্য সবার থেকে আলাদা।

আর এখন খারাপ হয়ে গেলো। আসলে আপা বুঝলেন, স্বার্থে আঘাত লাগলে সবাই খারাপ হয়ে যায়। আপনি এখন প্লিজ আসতে পারেন আপা। ভদ্রমহিলা কিছু আর না বলে ফিরে গেলেন। বি:দ্র : অবস্থান মানুষকে বদলে দেয়। নিজেকে প্রত্যেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করুন তখন দেখবেন জীবন আপনা আপনি বদলে যাবে। আর তখন আপনি কারো পিছে দৌড়াতে হবেনা সবাই আপনার পিছে দৌঁড়াবে। তাই নিজেকে যোগ্য করে প্রস্তুত করুন,দেখবেন কোন একজন আপনার যোগ্য হয়েই আছে। Go ahead, maybe someone is waiting for you যতই দিন যাচ্ছিলো ভালোবাসায় ঘেরা আমাদের ৩ বোনের জীবন সুন্দর কাটছিল। প্রায় ১ বছরের মাথায় আপা নতুন এক ফ্লাট আর গাড়ি কিনে ফেললো! অনেক কিছু বদলে যায় আমাদের জীবনে এই ১ বছরে,বিশেষ করে আপা আর বৃষ্টির জীবনের অমায়িক পরির্বতন ঘটে। ভাসির্টি লাইফে এসে যে ছেলেটার প্রেমে পড়ি আমি তার নাম নাদিম।শহরের নাম করা বিজন্যাসম্যান দের ভিতর একজন ছিলো নাদিমের বড় ভাই কবির।এতো বড় ঘরের ছেলে হয়েও অনেক ভালো গুন আছে ছেলেটার মাঝে যার কারনে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হই আমি। সবকিছুর পরও একাকিত্ব বিরাজ করতো আমার মাঝে।নাদিম একমাত্র ভরসার মানুষ হয়ে উঠেছিল তখন আমার জীবনে। যখন আমি হাসতাম নাদিমের সাথে থেকেই হাসতাম আবার যখন কাঁদতাম নাদিমের সাথেই কাঁদতাম। সকাল কিংবা বিকেল গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়ে যেতো নাদিমের সাথে থাকলে আমি টেরই পেতাম না। একই ভার্সিটি তে একই সাথে পড়ার কারনে পড়াশুনায় ও খুব সাহায্য করতো আমাকে। ভার্সিটি বন্ধ থাকায় সকাল সকাল ঘুম ভাঙে নাদিমের ফোন পেয়ে, -মেঘনা আজ রাতে তোমাকে নিয়ে একটা পার্টিতে যাবো? -রাতে কেনো পার্টি হবে? –

পার্টিতে তো রাতেই যায় মানুষ। অনেক সুন্দর ব্লু বেরী হোটেলে পার্টি।অনেক নামী দামী মানুষ আসবে।তুমি তৈরি থেকো, আমি গাড়ি নিয়ে এসে তোমার বাসা থেকে পিক করে নিয়ে যাবো। -এতো মানুষের ভীরে আমার যেতে ভালো লাগেনা নাদিম।তার চেয়ে চলো আমরা কোন রেষ্টুরেন্ট এ একসাথে ডিনার করি। -তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনা। তাই না? -এখানে বিশ্বাসের কথা আসছে কেনো।আপা অফিস থেকে অনেক রাতে আসে। আর বৃষ্টিকে একা রেখে আমি কোথাও যাইনা। -শুধু আজকে প্লিজ চলো।আমার অনেক বন্ধু বান্ধবীদের বলেছি তুমি আসবে। এখন তুমি না গেলে আমাকে অনেক অপমানিত হতে হবে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, -এসব হোটেলের নাইট পার্টিতে মানুষ ড্রিংস্ক করে!ড্যান্স করে! আমি কিন্তু এসবে অভ্যস্ত না। -সমস্যা নেই।তুমি যেমন তেমনি আমার পছন্দ।আই লাভ ইউ। তৈরি থেকো কিন্তু। আমি সরাসরি “হ্যা”কিংবা “না” কোনটাই না বললেও নাদিম আমার নীরবতা “হ্যা” ধরে নিয়েছিলো।সন্ধ্যার পর অনিচ্ছা সত্তেও সেজেগুজে বসে আছি,লাল রং এর গ্রাউন পরে। বৃষ্টি চুপিচুপি আমার রুমে এসে দাঁড়িয়ে আছে আর মুচকি মুচকি হাসছে… -ডেটে যাচ্ছো আপু? -তুই ডেটের কি বুঝিসরে? -বুঝি বুঝি ! আমি সবই বুঝি,দুলাভাইয়ের নাম কি? -একটা চড় মারবো তোকে,যা পড়তে বস,শোন আমি আসার আগে বাসায় কেউ আসলে দরজা খুলবিনা,আপা আসার আগেই আমি চলে আসবো। -আচ্ছা ! কিন্তু আমার জন্য কিটকাট নিয়ে আসিও। -আনবো,এখন বল আমাকে কেমন লাগছে। আমার চুল বাধা ছিলো,বৃষ্টি এসে চুলের ক্লিপ খুলে দিয়ে আমার চুল ছেড়ে দিলো, -এখন একদম প্রিন্সেস এর মতো লাগছে। -তুই সত্যি অনেক বড় হয়ে গেছিস বৃষ্টি। -হ্যা ! তাতো হয়েছিই,আমার বয়স এখন ১৮। -১৭ বছর ৩ মাস।মেয়েদের বয়স কমিয়ে বলতে হয়,তুই দেখছি সবকিছুতে এগিয়ে। -এটা তো শুধু তোমার জন্য বললাম,এমনিতে ছেলেদের আমি বয়স কমিয়েই বলি। রাতের অন্ধকারে নাদিমের সাথে গাড়িতে বসে আছি! সেই কখন থেকে নাদিম

গাড়িতে বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, -কিছু বলতে চাইলে বলতে পারো নাদিম। -তোমাকে পরীর মতো লাগছে মেঘনা, তোমার চুল এতো সুন্দর আগে কখনো জানতাম না। -জানলে কি করতে? -তাতো জানিনা,জানো আজ ইচ্ছে করছে তোমাকে নিয়ে সোজা কাজী অফিসে যেয়ে বিয়ে করে আসি। -তাই? -হ্যা! বিয়ে করবে আমাকে প্লিজ! -তুমি কি প্রপোজ করছো আমাকে? -হ্যা! বলো না কবে করবে? -এভাবে বিয়ের জন্য কেউ প্রপোজ করে?বাসায় বিয়ের জন্য আপার কাছে প্রস্তাব পাঠাও।তবে আগে আপার বিয়ে হবে তারপর আমরা বিয়ে করবো। -তোমার আপার বয়ফ্রেন্ড আছে? -না! আপা প্রেমে বিশ্বাস করেনা। -আমার বড় ভাইও এমন। অনেক বয়স হয়েছে এখনো মা বিয়ে দিতে পারেনি।এক কাজ করি মা’কে দিয়ে কবির ভাইয়ের জন্য তোমার বোনের বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই।তারপর যদি সম্ভব হয় দুই বিয়ে একসাথে হবে। -কি বলছো এসব নাদিম?এটা কীভাবে সম্ভব? -ঠিকি বলছি,শোন! এমনিতেও তোমরা বোনেরা একে অন্যকে ছাড়া থাকতে পারোনা আর যেহেতু তোমার মা এখন বেঁচে নেই তাই তুমি দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে না দিলে তোমার বোন কখনো বিয়ে করবেনা।আর আমরাও ভাইয়ের জন্য সেই কবে থেকে মেয়ে খুঁজছি।ভেবে দেখো আমার কথাগুলো! অবশ্য তোমার যদি আপত্তি না থাকে,তাহলেই শুধু মা’কে বলবো আমি… আমি গাড়িতে যেতে যেতে নাদিম এর কথাগুলো ভাবলাম! অবশ্য নাদিম খারাপ বলেনি,আপা আমাদের জন্য এই ১ বছরে যা করেছে তার ঋন আমরা দু’বোন জীবন দিয়েও শোধ করতে পারবোনা,বাবা-মায়ের লাশের ছবি এখনো চোখে ভাসে আমার,কতোনা কষ্ট করেছে এই শহরে এসে আপা আমাদের জন্য,কোথা থেকে এতো টাকা পয়সা আসে কোনদিন জানতে পর্যন্ত চাইনি আমি আর বৃষ্টি। যখন যা চেয়েছি তাই পেয়েছি,এখনো পাচ্ছি,এখন আমাদের ও কিছু করার সময় এসেছে আপার জন্য। শহরের জ্যামে গাড়ি থামতেই আমার ভাবনার ঘোর ভাঙে। বাম দিকে তাকাতেই একটা কালো গাড়িতে আপাকে দেখে চমকে উঠি আমি,আমি দ্রুত গাড়ির গ্লাস নামিয়ে “আপা” “আপা” বলে চেঁচিয়ে উঠি, -কি করছো মেঘনা? কি হয়েছে? -ওই কালো গাড়িটায় আপা বসে আছে, এই বলে নাদিম এর দিকে তাকাতেই গাড়ি ছেড়ে সামনে চলে যায়, নাদিম-আচ্ছা বুঝলাম তোমার আপা ওই গাড়িতে কিন্তু এভাবে ডাক দেয়ার কি আছে? আমি নাদিমের কথার উত্তর না দিয়ে ফোন হাতে নিয়ে আপাকে ২ বার কল দিলাম,২ বারই আপা ফোন কেটে দেয়। মনে মনে ভাবছিলাম আপাতো সকালবেলা নরমাল সেলোয়ার কামিজ পরে বের হয়েছিলো,এতো রাতে কালো সিল্কের শাড়ি পরে সেজে কই যাচ্ছে? নাদিম বললো-শান্ত হও

এতো ব্যস্ত হওয়ার কি আছে আপাকে দেখে? -তুমি বুঝবেনা নাদিম,এমনিতেই আপাকে না বলে কোথাও যাইনা আমি,হোটেলের কাছাকাছি থাকলে আপাকে বলতাম যাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যেতে। -তুমি না আপা ছাড়া কিছু বুঝোনা মেঘনা! …… বলেই নাদিম আরেকদিকে তাকিয়ে আছে। ব্লু বেরী হোটেলের সামনে গাড়ি থামতেই নাদিমের সাথে বের হই আমি, গাড়ি যেখানে থামে সেখান থেকে গেট বেশ দূরে,আমার চোখ পরে গেটের দিকে আপা একটা লোকের সাথে হোটেলের ভিতরে যাচ্ছে,আমি আবার ও দূর থেকে আপা বলে চেঁচিয়ে উঠি। নাদিম আমার হাত ধরে টান দেয়, -আবার কি হয়েছে মেঘনা? -আপাও পার্টিতে এসেছে নাদিম, -আচ্ছা ঠিক আছে,তুমি রাস্তায় চেঁচিয়ো না, আমরাতো যাচ্ছি ভিতরে। নাদিম এর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে আমি নাদিম এর আগে আগেই হোটেলের দিকে যাই,মনে মনে ভাবছিলাম এতো মানুষের ভীড়ে আপাকে খুঁজে পেলে হয়।গেটের লোকদের নাদিমকে দেখিয়ে দিয়ে নাদিমের আগেই আমি হোটেলের ভিতর ঢুকে যাই। আপার সাথে একটা ফরেনার লোককে নিচে বলতে শুনি, -We have a Reservation ! হোটেলের ভিতরে ৩ দিক থেকে ৩ টা সিঁড়ির একটা সিড়ি বেয়ে আপা উপরে উঠে যাচ্ছে!আমি ও সেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাই,চারদিকের মানুষের ভীড় ঠেলে আপাকে অনুসরন করি! হোটেলের রুমগুলোর আলাদা গেটের ভিতরে আপা চলে যায়,কিন্তু সেই গেটে ২ জন লোক আমাকে বাধা দেয়, -Where are you going Mam? বিরক্ত নিয়ে আমি উত্তর দেই, -দেখুন আমার আপা ভিতরে আছে,যেতে দিন আমাকে… -Sorry ! You Can’t go there! পিছন থেকে নাদিম আমাকে ধরে ফেলে, -মেঘনা কি হয়েছে তোমার? আমার চোখমুখে চিন্তার ছাপ,কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা,নানারকম চিন্তা আমার মাথায় তখন ঘুরপাক খাচ্ছে…. নাদিম আবার প্রশ্ন করলো, -মেঘনা ! পার্টি এইদিকে, তুমি এখানে চলে এলে কেনো? -আমার মনে হলো

. ক্ষ্যাত বউ….. . — কিরে দোস্ত? ওই ক্ষ্যাত মেয়েটাকে তুই বিয়ে করবি? আরে আর বিয়ের পাত্রী পাইলি না? ইশ জামাকাপড়ের অবস্থা দেখ! লং কামিজ পড়েছে, আজকালকার যুগে কেউ লং ড্রেস পরে? আরে দোস্ত আমারে দেখ! আমার বেশ কয়েকটা প্রেমিকা। সবাই কত মর্ডান আর শর্টকাট পোষাক পরে। আমি সিজানের কথা শুনে কোনও কথা বলছিনা। শুধুই মুচকি হাসছি। সিজান চোখ বড় আর গোল করে তাকিয়ে বললো, — তোকে এতগুলো কথা বললাম তুই হেসে উড়িয়ে দিলি? আচ্ছা কেমন ছেলে তুই? সেই সাত আট বছর ধরে ওই ক্ষ্যাত মেয়ের সাথে প্রেম করলি! অথচ একবারো ভাবলি না ও একটা ক্ষ্যাত? আমি মুচকি হেসে সিজানকে বললাম, — আচ্ছা আফিফা কে তোর ক্ষ্যাত মনে হওয়ার কারন কি? খুলে বলতো? — ও কখনো তোর সাথে ডেটিংয়ে গেছিলো? — না যায়নি। — তোকে কিস করেছিলো? — না করেনি! — তোর হাত ধরেছিলো? — না ধরেনি। — এবার বল, ও তোকে কিস করেনি, হাত ধরেনি তার মানে ও তোর সাথে বেডেও কখনো শোয়নি? এই কথাটা শোনার পর সিজানকে কষে একটা চড় মারা উচিৎ আমার। কিন্তু আমার মাথা প্রচন্ড রকমের ঠান্ডা। তাই মুচকি হেসে বললাম, — তো, এইগুলা না করলে সে ক্ষ্যাত? — হুম অবশ্যই ক্ষ্যাত। আমার যতগুলো গফ ছিলো। সবাই বেডে যাওয়ার জন্য অস্থির!!! কি আশ্চর্য!! সিজানের এই কথাটা শোনার পরও আমার মাথাটা ঠান্ডাই আছে। আমি সিজানকে ঠান্ডা মাথায় বললাম, — তাহলে তো আমিও ক্ষ্যাত!!

! — কেন? তুই কেন ক্ষ্যাত হইতে যাবি? তুই একটা হ্যান্ডসাম ছেলে!!! — আমিও তো কখনো কাউকে কিস করিনাই, কারো হাত ধরিনাই। কাউকে বেডেও নিয়ে যাইনাই!!! — হুম! তুই শোন! আফিফা কে বিয়েই তো করবি কিছুদিন পর! বিয়ের আগে তুই একবার ওকে বেডে নিয়ে যা। ইনজয় কর!! এবারও আমার রাগ উঠলোনা। বরং একটা দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় খেললো। আমি বুদ্ধি টা সিজানের সামনে প্রকাশ করলাম না। . কিছুদিন পর আমার আর আফিফার বিয়ে হলো। আমার বিয়ের কয়েকমাস বাদে সিজানও বিয়ে করলো। তারপর আর কখনও সিজানের সাথে দেখা হয়নি আমার। আমি চাকুরীর জন্য ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম। . কোনও এক ছুটির দিনে আফিফাকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। হঠাৎই দুরে সিজানের মতো কাকে যেন দেখলাম! একটু এগিয়ে গিয়ে নিশ্চিত হলাম ওটা সিজানই। সিজান সবসময় হাসিখুশি আর আমোদী একটা ছেলে। তাকে আজ বিষন্ন লাগছে। আমি আফিফা কে সাথে নিয়েই তার সামনে গিয়ে বললাম, — কেমন আছিস সিজান? — এইতো আছি! তোরা কেমন আছিস? এমনভাবে বললো, দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো সে ভালো নেই। আমি ঘটনা আচ করতে পেরে বললাম, — আলহামদুলিল্লাহ ভালই আছি। তো? তোর বউ কই? বিয়ের সময় তো আসতে পারিনি। ভাবীকে দেখাবিনা? — জ্বী সে নেই। — নেই মানে? — ডিভোর্স হয়েছে। — ডিভোর্স হয়েছে? কি বলিস? তুই কি ক্ষ্যাত মেয়ে বিয়ে করেছিলি? — আরে সেরকম না। আমার বৌ মর্ডানই ছিলো। আমার যে গফ রিয়া ছিলো। ওকেই বিয়ে করেছিলাম। — কি বলিস? ও তো তোর মনের মতো। একদম তুই যেমন চাস। তাইলে ডিভোর্স হইলো কেন? — আর বলিস না। আমার কোনো কথাই শোনেনা। রোজ রাতেই পার্টি হ্যান তেন এসব করেই কাটায়। আমি মানা করলে ঝগড়া লেগে যায়। — ওওও, তারপর? — রোজ রাতে এইসব প্যারা আর ভালো লাগেনা দোস্ত। জীবনটা একদম তেজপাতা হয়ে গেছে। ঝগড়া করে কয়েকমাস ধরে বাপের বাড়িতে। গতকাল ডিভোর্স পেপার পাঠাইছে। . আমি এবার আফিফার হাত টা শক্ত আরে ধরে বললাম, — এই যে তোর ভাবী। আফিফা। তোর ভাষায় ক্ষ্যাত মেয়