৬০ হাজার লোকের ভিড়েও লুকাতে দিল না স্মার্ট ক্যামেরা!

চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীনের পুলিশ একটি কনসার্টে ৬০ হাজার দর্শকের ভিড়ে মিশে থাকা একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মিস্টার আয়ো নামের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি গত সপ্তাহে চীনের নাঞ্চ্যাং শহরে জনপ্রিয় পপ তারকা জ্যাকি চিউংয়ের কনসার্ট উপভোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে ‘আর্থিক/অর্থনৈতিক অপরাধের দায়ে’ অভিযুক্ত আয়োকে পুলিশ ধরে ফেললে তিনি ‘হতভম্ব’ হয়ে যান।

চীনে নাগরিকদের ওপর নজরদারি বা সারভেইলেন্স ক্যামেরার বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ১৭ কোটি সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার যুক্ত করায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নজরদারি করার ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আগামী কয়েক বছরে এই নেটওয়ার্কে আরো ৪০ কোটি ক্যামেরা যুক্ত করা হবে।

কনসার্টের টিকিট কাউন্টারেই আয়োকে শনাক্ত করে ক্যামেরা। পরে অন্যান্য দর্শক-শ্রোতার মধ্যে মিশে গেলেও তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

চীনের জিনহুয়া সংবাদ সংস্থাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যখন তাকে ধরি, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি একদম বোকা বনে গিয়েছিলেন। উনি মনে করেছিলেন আমরা তাকে ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে এত দ্রুত ধরতে পারব না।’

পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, টিকিট কাউন্টারের একাধিক ক্যামেরায় চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি যুক্ত করা ছিল।

আয়ো কনসার্ট উপভোগ করতে তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূর থেকে গাড়ি চালিয়ে ন্যাঞ্চ্যাং শহরে যান।

একটি নিউজ সাইটকে আয়ো বলেন, ‘আগে জানলে আমি ওই কনসার্টে যেতামই না।’

চীনের পুলিশ চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগেও বিভিন্ন সময়ে অপরাধী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে।

গত বছর আগস্ট মাসে একটি আন্তর্জাতিক উৎসব চলাকালীন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল।

চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তিতে চীন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশটি তাদের নাগরিকদের নিয়মিত মনে করিয়ে দেয় যে, অপরাধ করে কর্তৃপক্ষের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
নতুন স্মার্টফোন দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি গতিও মেলে বেশ। যে কোনো কাজ করা যায় দ্রুতই। তবে দিন যতো যেতে থাকে ফোনের গতিও একটু একটু করে কমতে থাকে। এ সমস্যা অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ বা আইওএস সব অপারেটিং সিস্টেমেই দেখা যায়। এ কারণেই যে ঘন ঘন ফোন বদলাতে হবে তা কিন্তু নয়। কিন্তু কিভাবে মোবাইল ফাস্ট রাখবেন আসুন জেনে নেয়া যাক-

১) স্মার্টফোনে সব সময় সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) ব্যবহার করা উচিত। সে জন্য নতুন ওএস এলে সেটি আপডেট করে রাখা উচিত। এতে ফোন থাকবে গতিময়। কেননা ফোনের ওএসে বিভিন্ন সময় নানা রকমের বাগ ধরা পড়ে। তখন ফোনে ক্রুটি দেখা যায়। পুরনো ওএসকে বাগমুক্ত করতে নতুন সংস্করণ আনা হয়। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ডিভাইসের সেটিংস অপশন থেকে সফটওয়্যার আপডেট অপশন থেকে দেখে নেওয়া যাবে কোনো নতুন আপডেট আছে কিনা। সেখানে ক্লিক করে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ওএসটি আপডেট করে নেয়া যাবে।

আরও খবর : পরিবর্তন আসছে জি-মেইলে

২) স্মার্টফোনে অনেক অ্যাপ থাকে যেগুলো একবারের পর আর প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া অনেকে কিছু অ্যাপ ইন্সটল করলেও তা হয়ত ব্যবহারও করেন না। এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইন্সটলের ফলে ফোনের ইন্টারনাল মেমোরি কমে যায় ও র‍্যামের ওপর চাপ পড়ে। ফলে স্মার্টফোনটির গতি কমে যায়। তাই ফোনে থাকা অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রিমুভ করে ফেলা উচিত। এতে আপনার ফোন থাকবে নতুনের মতো গতিময়।

৩) অ্যান্ড্রয়েড ফোনের হোম স্ক্রিনে নানা উইজেট থাকে। এগুলোর সাহায্যে কম ক্লিকে অনেক কাজ করা যায়। এ ফিচারের সুবিধার মতো অসুবিধাও রয়েছে। অনেক বেশি উইজেট হোমে থাকলে তা র‍্যামের ওপর চাপ ফেলে। এতে ফোনের গতি কিছুটা হলেও কমে যায়। তাই সেখানে অপ্রয়োজনীয় উইজেট কিংবা অ্যাপের আইকন না রাখাই ভালো।

৪) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইন্সটল করার পরেও ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি রাখলে দারুণ গতি পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ডাউনলোড ফাইল, ব্রাউজারের হিস্টোরি, অনেকদিন আগের ছবি ইত্যাদি সরিয়ে মেমোরি খালি রাখা উচিত।মেমোরি পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ফোন ধীর হয়ে পড়ে। এ জন্য ছবি বা প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো কম্পিউটার ব্যাকআপ কিংবা অনলাইনের ক্লাউড স্টোরেজ সংরক্ষিত রাখা যায়। এতে ইন্টারনাল মেমোরি থেকে অতিরিক্ত ফাইল রিমুভ করার মাধ্যমে কিছু স্টোরেজ বাড়ানো যাবে।

৫) গতি বেশ কমে গেলে কিংবা হঠাৎ হ্যাং করলে ফোনটি রিস্টার্ট দেওয়ার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সমাধান পাওয়া যায়। অনেক সময় গতি বাড়াতে ফ্যাক্টরি রিস্টার্ট দেওয়া যেতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে নতুন রূপে হাজির হবে ফোনটি। তবে ফ্যাক্টরি রিসেটের বা রিস্টার্ট দেওয়ার আগে ফোনে থাকা ডেটার ব্যাকআপ নিয়ে নিতে হবে। কল লিস্টে কোনো নম্বর সেইভ না থাকলে তা সংরক্ষণ করে নিন।