বিয়ের কনের ছবি চলে যাচ্ছে পর্ন সাইটে

এখন থেকে বিয়ের আগে ছবি এবং ভিডিও করে তা শেয়ারের ব্যাপারে সতর্ক হোন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, প্রি ওয়েডিং ফটোশুটের দৃশ্যগুলো অপব্যবহার করছে বিভিন্ন পর্ন সাইট। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিএনএ এক প্রতিবেদনে জানায়, ছবি ও ভিডিওতে ধারণকৃত কনের মুখ ব্যবহার করা হচ্ছে কিছু পর্ন সাইটে। সম্প্রতি ভারতের কেরালায় এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের জন্য তোলা ছবি থেকে বউয়ের মুখ কেটে তা পর্ন সাইটে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সব নকল ছবি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে গিয়ে ভাইরালও হচ্ছে।

কেরালার ভুক্তভোগী ওই নারীর ছবি একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের পর তা সবার নজরে আসে। ওই নারীর বিয়ের সময়ে তোলা ছবিগুলো পর্ন সাইটে ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনার পর সেই নারী যেখান থেকে ছবিগুলো তুলিয়েছিল সেই ‘সদায়াম শুট অ্যান্ড এডিট’ নামক স্টুডিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই স্টুডিও’র ফটোগ্রাফারেরা তার এক প্রতিবেশীর বিয়ের সময়ে ছবিগুলো তোলে। পরে সেগুলি এডিট করে তা পর্ন সাইটে ব্যবহার করা হয়। এরপর সেগুলো আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওই নারী প্রথমে বিষয়টি তার কিছু আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে খোঁজ নিতেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। জানা যায়, ওই নারী ছাড়াও আরও বেশ ক’জন সদ্য বিবাহিতদের সঙ্গেও এমনটা করা হয়েছে। তারাও নাকি ওই স্টুডিও’র কর্মীদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরই ওই স্টুডিওতে অভিযান চালায়। স্টুডিও থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন মেয়েদের বিয়ের ছবি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর স্টুডিও’র মালিক সথীসন এবং দিনেশকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে বিবেশ নামের স্টুডিও’র যে কর্মচারী মূলত ছবিগুলো এডিট করতো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, স্টুডিও থেকে ৪০ হাজারের বেশি ছবি পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই বিয়ের সময় তোলা হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, এরই মধ্যে শতাধিক নারীর ছবি পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেলিং’ও করেছে অভিযুক্তরা।
বাল্যবিবাহ অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধ করা হচ্ছে

বাংলাদেশে অ্যাপের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধে জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি নম্বর বা পাবলিক পরীক্ষার রোল দিয়ে পাত্র-পাত্রীর বয়স যাচাই করছেন বিবাহ নিবন্ধকরা।

মোবাইল *১৬১০০# নম্বরে ডায়াল করলে সেখানে বয়স যাচাইয়ের একটি অপশন আসে। আর সেখানে জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষা সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই চলে আসে সঠিক বয়স।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬ সালের জরিপে দেখা যায়, রংপুরের কুড়িগ্রাম জেলায় ৯১ শতাংশ বাল্যবিয়ে হয়। সে বছরই ওই জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয় জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার।

আরও খবর : ফেসবুকে যে কাজগুলো করা যাবে না

তবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ও সার্ভার জটিলতায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় কাজীদের। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় রংপুরের আরও ৪টি জেলাকে আনা হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়।

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মনে করেন, বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে তথ্য প্রযুক্তি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বয়স যাচাই ও বিয়ে নিবন্ধনে ব্যাপক সাড়া মিলছে।